আমাদের কথা

বইমেলাই সাড়া ফেলেছে উপন্যাস “ঙ নম্বর বগি ” ফেসবুকে লেখকের আবেগঘন স্ট্যাটাস

 

রয়েল ডেস্ক: তরুণ প্রতিভাবান লেখক বুলবুল মাসউদ এবার ২০১৯ এর বই মেলায় ঘাসফুল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা প্রথম উপন্যাস ও ঙ নম্বর বগি। ইতিমধ্যে বইটি পাঠকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। নিচে লেখক এর ফেইসবুক এ দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু কপি করা হলো —

 

বই হয়ে ওঠার কিছু কথা: “ঙ নম্বর বগি”।
# প্রথম সন্তান তাই ভালোবাসার গভীরতা বোঝাতে অক্ষম (উপন্যাস হিসেবে)।
লেখকস্বত্তার সবচে বড় সমস্যা হল তারা প্রচার বিমুখ হয়। ভালোবেসে কেউ প্রচার করলে কিংবা রিভিউ দিলে হোক তা ভালো কিংবা মন্দ। তাতেই একজন লেখকের আনন্দের সীমা ও তৃপ্তির শেষ থাকে না।
“ঙ নম্বর বগি”। ২০১৭ সাল থেকে লেখার চেষ্টা। কাটাকুটি। কারেকশন। আবারও লেখার চেষ্টা। সময়ের অভাব। নিজের বাজে স্বভাব(অলস)। লিখতে যে ভালোবাসি আমি। খুব বেশী ভালোবাসি হয়তো নিজের চেয়েও বেশী। খাবার না খেলে বেলা যায় কিন্তু প্লট আসলে লিখতে না পারা অবধি সুবেলাও অবেলায় পরিনত হয়। তখন সবাইকে অসহ্য লাগে। এমনকি মাও।
মা। চুপেসারে যে আমার দ্বিতীয় ঈশ্বর (ভুল বুঝবেন না উপমাস্বরুপ)। বাবারা যা হয় তার চেয়েও কঠোর ও নীতিবান আমার বাবা। লেখা-লেখিতে কি দিবে তোরে? এসব কবিগীরি বাদ দে। না খেয়ে মরতে চাস তো এসব বাল-ছাল কর। যাইহোক আমার পাঠক খুব কম। কারণ আমি যে লিখি তা আমি জোর গলায় বলতে লজ্জা বোধ করি। লেখার জন্য নয়। লেখকদের বা কবিদের পরনতির জন্য নয়তো অন্য কোন কারণে। আমার গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। রাস্তা মাটির। পাশেই সুন্দরবন। আমার বন্ধু রিফাত হোসেন ইমন, শাওন ও আতাউল্লাহ তার স্বাক্ষী। এই গ্রামের মানুষগুলো লেখক মানে নাস্তিক বোঝে। কারণ তারা বই পড়েনা। না কোরআন , না রবীন্দ্রনাথ। নজরুল নামায় খুশী হয়। অন্ধ বিশ্বাসের কারনে হয়তো।
বাবা-মামাদের কাছে আমার লেখা-লেখি রীতিমত অসহ্য হয়ে উঠেছে। তাছাড়া যখন শুনল আমি সিনেমা বানাতে চাই। তখনতো কেউ কেউ কথা বলা বন্ধ করে দিল। বানালামও ছোট সিনেমা। সাফল্যও পেলাম। তবুও তারা খুশী নয়। কারো খুশী-অখুশীতে আমাকে ভাবায় না। আমাকে ভাবায় অন্যকিছু। যার জন্য এই উপন্যাস। এই ঙ নম্বর বগি। একটি চরিত্রের জন্ম যার নাম রাকু মামা।
এই উপন্যাসের প্রথম পাঠক মুক্ত। ছেলেটি আমার এক সময়ের মেসমেট। ছেলেটিকে বইপোকা বলা যায়। সে উপন্যাসটি পড়ে একটু বেশীই প্রশংসা করেছিল। যা আমাকে আরও কঠোর করল। আবারও কারেকশন শুরু করলাম। দ্বিতীয় পাঠক নন্দিনী। যে বই প্রকাশের জন্য ঠেলা-ঠেলি করতে করতে ছাল তুলে ফেলছিল। অত:পর প্রকাশক। মাহদী আনাম ভাই ও সাঈদ ভাইকে পাওয়া।
কবি বন্ধু একরাম আজাদ। যার জন্য প্রকাশক খুঁজে পাওয়া। মতের মিলন। যার জন্য প্রচ্ছদ শিল্পী আল-নোমান ভাইয়ের সাথে পরিচিত হওয়া। অমর হোক কবির সকল কবিতা। নাঈম, মশিউর, তিন্নী আমার সকল উৎসাহের যোগানদাতা। মিঠুন আমার ছোটভাই যে ভালোবেসে যত্ন করে একটি প্রচ্ছদ করে দিয়েছিল কিন্তু ঠিক মনপূত হয়নি। ছেলেটার ভালোবাসায় আমি বারবার মুগ্ধ হই।
রেযওয়ান উল্লাহ, জাহিদ, কামাল ভাই, নাঈমুদ্দীন, নাজমুল হাসান, রাজু আরমান, আশিক ইমন, স্বাধীন, এস কে ইমরান, লেখক বন্ধু তুহিন মেরু, ইমাম সেজান সহ অনেকে যারা আমাকে এপ্রিসিয়েট করত। আমার অনেক ভুল কাজকেও সঠিক বলত বন্ধু আসিবুর রহমান জয়। রাব্বী মাহমুদ যে অনেক কিছু শুধাত আমায়।
বিএল কলেজের অর্থনীতী বিভাগ আমাকে এমন অনেক বন্ধু দিয়েছিল। যারা ফোন করে করে কবিতা চাইত। গল্প পড়তে চাইত। ইনবক্সে দিতাম। আর অল-মুহিয়ান, রিতু, অরিন, মুসলিমা আপু, টুম্পা আপু, সুমি আপু, প্রিন্স ভাই, তানজীর সৌরভ ভাই, শাওন ভাই, হাসান ভাই, আশরাফুল ভাই বিশেষত আজাদ মাহমুদ ভাই তাদের কাছে বিভিন্ন কারণে –অকারণে কৃতজ্ঞ।
স্যার আমিরুল ইসলাম সহ জয়টিভি পরিবারের আমিনুল ভাই, সাব্বির, বাপন দাদা যারা আমাকে এখনো কবি ভাই বলে ডাকে। ভালোবাসা তাদের জন্য। লেখক বন্ধু আবীর ফেরদৌস, অভিনেতা আর এস শুভ, অভিনেতা আলভী মামুন, এডি বন্ধু মিরাজ আহম্মেদ এবং মোখলেছুর রহমান মিঠু ভাই। “ঙ নম্বর বগি” উপন্যাসের গল্পটি শুনে মিঠু ভাই নিজে স্পন্সর করতে চেয়েছিলেন। তবে তা আর প্রয়োজন হয়নি প্রকাশকের সাহসীকতায়। আমার একমাত্র ছোট বোন মাহফুজা। ও বলতো, তোর যা মন চায় তুই করতো, ভাই। কেউ না দোয়া করলে আমি করমু।

বোন তোর দোয়া কবুল হয়েছে। “ঙ নম্বর বগি” উপন্যাসটি বই আকারে বইমেলা-২০১৯ আসছে। স্বনামধণ্য ঘাসফুল প্রকাশনী থেকে।
সবার কাছে দোয়া চাই। সকলের ভালোবাসা চাই। অনেক অনেক ভালোবাসা চাই “ঙ নম্বর বগি” বইটির জন্য।
উপরোক্ত লেখায় যদি কেউ এতটুকু কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে নিজ দায়িত্বে কষ্টটুকু আমাকে ফরোয়ার্ড করবেন। প্লিজ।

Contact with this number for buy domain , hosting & also design like this website and your like.

ট্যাগ
আরো দেখুন

এই বিভাগের আরও কিছু খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close